সর্বশেষ

মালয়েশিয়া পাচারকালে ৫০ ব্যক্তি উদ্ধার

মালয়েশিয়া পাচারকালে ৫০ ব্যক্তি উদ্ধার

মালয়েশিয়া পাচারকালে ৫০ ব্যক্তি উদ্ধার

টেকনাফের পাচারকারী চক্রের ৯ সদস্য আটক

কক্সবাজার সংবাদদাতা:

মালয়েশিয়ায় পাচারকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উপকূল থেকে ৫০ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় আটক করা হয় পাচারকারী চক্রের ৯ সদস্যকেও। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বাহারছড়াসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে বাংলাদেশির পাশাপাশি মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকও (রোহিঙ্গা) রয়েছেন। তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। 

গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফের কেরুনতলী এলাকায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে অংশ নেন কোস্টগার্ড জাহাজ মনসুর আলী, স্টেশন টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ আউটপোস্ট ও বাহারছড়া আউটপোস্টের সদস্যরা। এ সময় বাহারছড়া উপকূলের অদূরে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে নির্দেশনা অমান্য করে সেটি গভীর সমুদ্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে বোটটি আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

পাশাপাশি বোট থেকে পাচার চক্রের ৯ সদস্যকেও আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় 
একটি মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

উদ্ধার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, উন্নত জীবনযাপন ও দ্রুত টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোকজন সংগ্রহ করত। পরে তাদের টেকনাফের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আটকে রেখে সুযোগ বুঝে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাচারকারীরা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত। কয়েকজনকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অপহরণ করে আটকে রাখার তথ্যও পেয়েছে কোস্টগার্ড।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, উদ্ধার ভুক্তভোগীদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আটক মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য ও জব্দ বোটের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারা মানব ও মাদক পাচার, অবৈধ অভিবাসন ও সমুদ্রপথে সংঘটিত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করবেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কোস্টগার্ডের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে মামলা হবে।