রাজনীতি

আওয়ামী লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

আওয়ামী লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

কার্যক্রম  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেক্স:

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ছেলের শ্বশুরবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে এক কার্যক্রম  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয় জেলে ও ঘাটে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।  

৫ জুন শুক্রবারদিবাগত রাতে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নেতার নাম অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ। তিনি  উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

৬ জুন শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ তার ছেলের শ্বশুরবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেরি চলাচল সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেখে তারা সেখানে পৌঁছান। তবে ঘাটে গিয়ে জানতে পারেন, রাতের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে হাতিয়ায় ফেরার উদ্দেশে একটি ট্রলার ভাড়া করেন তারা।

সূত্রগুলো জানায়, তাকে দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান ও হৈ-হুল্লোড় শুরু করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে ট্রলারে উঠিয়ে দেওয়ার পর তিনি নিজে জেটি থেকে ট্রলারে উঠার চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সরাসরি মেঘনা নদীতে পড়ে যান।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি কিছু সময় পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় জেলে ও ঘাটে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।

অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘আমি মনে করি এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। হাতিয়াকে রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য করার জন্য একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আল্লাহর রহমত ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছি।’

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জিয়াউল হক তালুকদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং আসন্ন হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।