পরপর দুটি সংঘর্ষের পর ভৈরবের ওসি প্রত্যাহার
অনলাইন ডেক্স:
পরপর দুটি সংঘর্ষে ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলীর নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ।
এ ছাড়া ভৈরব শহর ফাঁড়ি ইনচার্জ ইমাম আল মেহেদীকে জেলার কটিয়াদী থানার গচিহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্র জানায়।
প্রত্যাহারের বিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বলেন, পুলিশ সুপার প্রয়োজন অনুযায়ী এক থানা থেকে অন্য থানায় ওসি বদলি বা প্রত্যাহার করতে পারেন। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে ওসি পরিবর্তনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।
গত ৪ জুন রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে টানা ৫ ঘণ্টা ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এর পর ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কমলপুর এলাকার যুবকদের সঙ্গে দুর্জয়মোড় সংলগ্ন আশপাশের এলাকার যুবকদের রাত ১২টা পর্যন্ত টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল করে নেয় উভয় পক্ষ। ফলে সাড়ে ৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এ ঘটনায় ভৈরব থানার ওসি ও একজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ
আহত হয়। এর পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভৈরবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভৈরব থানা, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। অথচ প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
ফলে সরকারি স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ যানযটে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন অসংখ্য মানুষ।