বিশ্ব

রাতভর কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৮

রাতভর কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৮

রাতভর কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৮

 অনলাইন ডেস্ক :

রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। হামলায় শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুদেরসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরণে শহরের বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন যে, রাশিয়া একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরও সংক্ষিপ্ত করেন। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার এবং নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অনেক দিন ধরেই এই হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

হামলার সময় কিয়েভের আকাশে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা দেখা যায়। ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে রাতজুড়ে শহর কেঁপে ওঠে। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এটি ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রথম বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

এদিকে পরিস্থিতির কারণে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পোল্যান্ড। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হয়েছে রুশ বাহিনী। শহরটি দখলে নিতে পারলে পুরো ডনবাস অঞ্চলে প্রবেশের পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, চলতি বছরে তারা যতটা এলাকা হারিয়েছে, তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথেও বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।