খেলা

জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিল ফিফা

জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিল ফিফা

জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক:

ফিফা মঙ্গলবার জানিয়েছে, নতুন ও কঠোর নিয়ম প্রয়োগের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়ের ম্যাচে সম্ভাব্য জয়সূচক গোলটি বাতিল করা হয়েছিল। সোমবার প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইয়োনাথান তাহের হেড থেকে করা গোলটি ভিডিও পর্যবেক্ষণের পর বাতিল করা হয়। কারণ, গোলের আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিলের ওপর ফাউল হয়েছিল।

পুনঃপ্রচারে দেখা যায়, জার্মানির ভালদেমার আন্তন গোলরক্ষক গিলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। তবে সংস্পর্শটি খুবই সামান্য হওয়ায় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জার্মানি হেরে যায় এবং ইয়োনাথান তাহের নেওয়া নির্ধারক শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

বিশ্ব ফুটবলের রেফারিবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কল্লিনা জানান, রেফারিদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—যেসব খেলোয়াড় বল খেলার চেষ্টা না করে শুধু প্রতিপক্ষের চলার পথ আটকে দেন, বিশেষ করে গোলরক্ষকের ক্ষেত্রে, সেসব ঘটনাকে কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে।

কল্লিনা বলেন, ‘শুধু নিজের অবস্থান ধরে রাখা কোনো ফাউল নয়। কিন্তু যদি কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বলের প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের চলাচলে বাধা দেন এবং তাকে রক্ষণে অংশ নিতে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে রেফারি এবং প্রয়োজন হলে ভিডিও সহকারী রেফারিকে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে যখন এই কৌশলের উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে গোল রক্ষা করতে বাধা দেওয়া, তখন এমন ঘটনা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য।’

কল্লিনার ভাষায়, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের আগেই এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এমন ফাউলের শাস্তি দেওয়া হলে সেটি কারও জন্য বিস্ময়ের হওয়ার কথা নয়।’

এদিকে সময়ক্ষেপণ রোধে নেওয়া নতুন উদ্যোগগুলো সফল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে গোল কিক, পাশরেখা থেকে বল নিক্ষেপ এবং খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চোট পেয়ে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।

কল্লিনা বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং সবাই এগুলোকে ইতিবাচক নতুন উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।’