ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইতিহাসের ভুল দিকে’ অবস্থান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। তিনি বলেন, ইসরাইলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে বিরোধীরাই সঠিক অবস্থানে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া ইংলিশ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
বিরোধী জোটে সমর্থন ও আইজেনকোটের প্রশংসা
এহুদ ওলমার্ট বলেন, “বিরোধী দলের নেতা নাফতালি বেনেট, গাদি আইজেনকট, ইয়ার লাপিদ কিংবা ইয়ার গোলানের পক্ষে যারা ভোট দিয়েছেন, তারা ইতিহাসের সঠিক দিকে রয়েছেন। যদিও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, তবে নেতানিয়াহু পুরোপুরি ভুল পথে আছেন।”
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের প্রতি বিশেষ সমর্থন জানিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইজেনকোটের পরিপক্বতা, প্রস্তুতি ও জনপ্রিয়তা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত।”
ভীতি প্রদর্শন ও এআই বিতর্ক
নির্বাচনের দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর দেওয়া একটি এআই (AI) পোস্টের কড়া সমালোচনা করেন ওলমার্ট। ওই পোস্টে তেল আবিবের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি প্রকাশ করে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
ওলমার্ট এটিকে নেতানিয়াহুর “হতাশা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য হারানোর লক্ষণ” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে স্বৈরশাসকরা সাধারণত এমনটাই করে থাকে। তিনি দেশে আতঙ্ক ও উন্মাদনার পরিবেশ তৈরি করছেন।”
এছাড়াও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা নিয়ে নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেন ওলমার্ট।
দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ও সতর্কবার্তা
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান’ (Two-State Solution) বাস্তবায়নে ঝুঁকি নেওয়ার আহ্বান জানান ওলমার্ট। তিনি বলেন, “২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পেছনে নেতানিয়াহুর ভুল নীতিই দায়ী। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করে হামাসের সঙ্গে সমঝোতার কৌশল নিয়েছিলেন।”
একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। তা না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) আইনি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।



