সোহেল আহমেদ,শরণখোলা (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে জুঁই (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুঁই পাশ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পত্তাসী গ্রামের এনায়েত শরীফের মেয়ে। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই নিহতের কথিত দ্বিতীয় স্বামী মাসুদ খান আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত মাসুদ খান শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের কারণে জুঁই মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন। জানা গেছে, এর আগেও তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন প্রতিবেশীরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করালে তিনি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন।
নিহত জুঁইয়ের বড় বোন জুলি বেগম জানান, "প্রায় ১৩-১৪ বছর আগে সামাজিকভাবে শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মেনাজ হাওলাদারের ছেলে কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে পরবর্তীতে মাসুদের সঙ্গে জুঁইয়ের কীভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানত না।"
জুলি বেগম আরও অভিযোগ করেন, "আমরা লোকমুখে শুনেছি মাসুদ আমার বোনকে প্রচুর নির্যাতন করত। এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই দুই দিন আগে সে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা জুঁইয়ের মেয়েকে আমাদের কাছে নিয়ে আসি।"
বাড়ির মালিক ফরিদ ফরাজী বলেন, "গত ৫ অক্টোবর জুঁই ও মাসুদ বাসা ভাড়া নিতে আসেন এবং পছন্দ হওয়ায় ভাড়া থাকেন। কিন্তু ওঠার পর থেকেই তাদের প্রতিদিনের ঝগড়াঝাটিতে অন্য ভাড়াটিয়ারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। যার কারণে আমরা তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু বাসা ছাড়ার আগেই এই করুণ দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল।"
এদিকে মৃত্যুর আগে জুঁই তাঁর নিজের ফেসবুক লাইভে এসে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্মম নির্যাতনের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পুলিশ ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পূর্বে ফেসবুক লাইভে নির্যাতনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে কথিত স্বামী মাসুদ খান আত্মগোপনে রয়েছেন, তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পলাতক মাসুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।




