জমি দখল বা চাঁদা তুলতে নয়, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন ঘুণ্টিঘর দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানান।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যাওয়ার পর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করত বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা
ইশরাক হোসেন বলেন, গত আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। ওই এলাকায় নিয়মিত বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, ঘটনার দিন সেখানে পূর্বনির্ধারিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ২০ থেকে ৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকেন। তাঁদের কয়েকজন তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন তিনি।
ইশরাকের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আগ্নেয়াস্ত্রটি পকেটে রেখে দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমের সংবাদে দল বিব্রত হয়েছে বলে দাবি
ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে তিনি ও তাঁর দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এ ইস্যুতে দল বিব্রত হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
‘আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। কেবল নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু সময়ের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পাশাপাশি বিএনপির কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।




