অস্ত্র প্রদর্শন ও নানা বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সোমবার ১৯ অক্টোবর রাজধানীর পূর্ব বাড্ডার শ্রী শ্রী নিমতলা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মূল হোতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নাহিদ ইসলামের দাবি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র, কিন্তু রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো জবাবদিহির আওতায় না আনা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্টতই উল্লেখ করেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা এখন জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইশরাক হোসেনের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার কেবল দায়সারা আচরণ করছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পরও তাকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি সামনে এনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, দেশ কি কোনো নিয়ম বা সংবিধানের অধীনে চলছে নাকি কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, অপরাধীদের আইনের আওতায় না এনে সরকার কার্যত অরাজকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের পাশাপাশি নাহিদ ইসলাম সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কমিটি কেবল একটি রাজনৈতিক নাটক এবং সরকার দলীয় মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করছে। তার মতে, বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পূর্বের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়া বা নতুন করে বিতর্কিত সংস্কারের চেষ্টা প্রমাণ করে যে সরকার জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করছে না। প্রশাসনের প্রতি তার সরাসরি আহ্বান ছিল যেন তারা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করে। তিনি মনে করেন, জবাবদিহি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থাই টেকসই হতে পারে না এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করাই হবে বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র যৌক্তিক সমাধান।
পরিশেষে, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অস্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব জনমনে যে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না যায়, তবে রাষ্ট্রের ভিত্তি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের এই কঠোর অবস্থান এবং সরকারের প্রতি আনীত অভিযোগগুলো এখন জনমানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।




