শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) মধ্য নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকা থমথমে পরিস্থিতিতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পুরো শহরকে প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে নেতাদের আটক ও রাজপথ অবরুদ্ধ
চলমান আন্দোলন স্তব্ধ করতে মোদি সরকার নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নয়াদিল্লিগামী বহু ট্রেন বাতিল, ৫০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ককরোচ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করা মাত্রই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে দলের দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও বিমানবন্দর থেকেই আটক করা হয়।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে আসা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ট্রেন ও বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাহারানপুরসহ দূরদূরান্তের শহরগুলোতে বহু তরুণ ও বামপন্থী ছাত্রনেতাদের নিজ বাড়িতেই ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারিতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
‘জরুরি অবস্থার স্মৃতি ও মোদির দুর্বল অবস্থান’
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন করে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার এই ‘জ্ঞানেশগেট’ কেলেঙ্কারি মোদি সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণিকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ।
আন্দোলনকারী জেন-জি নেত্রী নেহা বোরা ও আন্দোলনকারীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৫ সালের ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজপথে হুইলচেয়ারে আসা সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় আলজাজিরাকে জানান, ক্ষমতায় থাকার ২৫ বছর উদযাপনের এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন। মোদি সরকার জনগণের এই গণজাগরণকে অত্যন্ত ভয় পাচ্ছে বলেই স্বৈরাচারী ও নির্মম পথ বেছে নিয়েছে। তবে মোদি সরকারের এই চরম দমনপীড়ন হিতে বিপরীত হয়ে আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলছে।




