ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ইবাদত-বন্দেগি, কর্মব্যস্ততা এবং সুন্দর জীবনের মূল ভিত্তি হলো সুস্বাস্থ্য। শরীর সুস্থ না থাকলে ঠিকমতো ইবাদত বা দুনিয়াবি কাজ করা সম্ভব নয়। তাই ইসলামে শরীর সুস্থ ও নিরাপদ রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিচে স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুস্থতার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরা হলো:
১. সুস্বাস্থ্য আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "এমন দুটি নিয়ামত রয়েছে, যেগুলোতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (তার সঠিক মূল্যায়ন করে না)—একটি হলো সুস্থতা এবং অপরটি অবসর।" (সহিহ বুখারি: ৬৪১২)
২. দুর্বল মুমিনের চেয়ে সবল মুমিন শ্রেষ্ঠ
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুর্বল মুমিনের তুলনায় সবল মুমিন অধিক কল্যাণকর এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।" (সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪)
৩. শরীরের ওপর শরীরের হক রয়েছে
হাদিস: সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) (অন্য এক প্রসঙ্গে) আবু দারদা (রা.) কে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, "নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে।" (সহিহ বুখারি: ৫৭০৩)
৪. সুস্বাস্থ্যের চেয়ে উত্তম কোনো নিয়ামত নেই
হাদিস: আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, "তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করো। কেননা, ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে উত্তম কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।" (সুনান আত-তিরমিজি: ৩৫৫৮)
৫. পরিমিত আহার ও অতিরিক্ত খাদ্য থেকে বাঁচা
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "মানুষ পেট অপেক্ষা খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। পিঠের দণ্ডিকা সচল রাখার মতো কয়েকটি গ্রাসই সন্তানের জন্য যথেষ্ট। যদি এর বেশি খেতেই হয়, তবে পেটের এক ভাগ খাবারের জন্য, এক ভাগ পানীয়ের জন্য এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে।" (সুনান আত-তিরমিজি: ২৩৮০)
৬. রোগ নিরাময়ের উপকরণ আল্লাহ রেখেছেন
হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।" (সহিহ বুখারি: ৫৬৭৮)
৭. মহামারি বা রোগে করণীয়
হাদিস: উসামা বিন জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লাগ বা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কথা শোন, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি তোমরা কোনো এলাকায় থাক এবং সেখানে মহামারি দেখা দেয়, তবে সেখান থেকে বের হয়ো না।" (সহিহ বুখারি: ৫৭২৮)
৮. কালোজিরায় সুস্থতার ঘোষণা
হাদিস: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "নিশ্চয়ই কালোজিরায় মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ বা নিরাময় রয়েছে।" (সহিh বুখারি: ৫৬৮৮)
৯. সকালে খেজুর খাওয়া
হাদিস: সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (সহিহ বুখারি: ৫৪৪৫)
১০. রোগ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া
হাদিস: উসামা বিন শারীক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক বেদুইন নবীজির কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি চিকিৎসা নেব? তিনি জবাবে বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা, আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক বা চিকিৎসা তিনি রাখেননি, কেবল বার্ধক্য ছাড়া।" (সুনান আবু দাউদ: ৩৮৫৫)
প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে শরীর ও মন সুস্থ রাখতে প্রিয় নবীজির (সা.) এই সুন্নাহ ও সোনালী নির্দেশনাগুলো মেনে চলা আমাদের একান্ত কর্তব্য। আসুন, স্বাস্থ্য সচেতন হই এবং ইসলামের সুমহান শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি।



