বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।
পোস্টে তিনি লেখেন, নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ময় ও গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
তাহসিফের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই কঠিন সময়ে মহান আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এ ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
পোস্টের শেষাংশে তাহসিফ সাউরির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন নাহিদ ইসলাম এবং তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস প্রার্থনা করেন।
এর আগে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তাহসিফের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে বসবাস করতেন। তার বাবা এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক পরিচিত ছোট ভাই বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর আর তিনি বাসায় ফেরেননি।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নিখোঁজ হওয়ার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।




