তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন ডিআইজি।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বোর্ডের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।
ডিআইজি বলেন, কোনোভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে জড়িত যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
তিনি বলেন, গত রোববার কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা জেলা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তার দাবি, সোমবার কোনো গার্মেন্টসে হামলার সুযোগ ছিল না এবং পুলিশ কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা মালিকরা নিজেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন অথবা কোনো কারণে কারখানা বন্ধ রেখেছেন।
এসপি শামীমা পারভীন বলেন, কারখানাগুলোর পাশে পুলিশ রয়েছে এবং নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হবে না। শ্রমিকদের জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানা খোলা রাখা এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিরা শ্রমিক নন বলে দাবি করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে দুষ্কৃতকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হেলমেট বা মাস্ক পরে যারা ভাঙচুর করছে, তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
শ্রমিকদের কাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, কেউ কাজে বাধা দিলে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




