মূল খবরে যান

সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ই-পেপার

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত এএসপি; কাভার্ডভ্যানে আগুনপোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে আ.লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী‘চাইলেই যেকোনো সময় ইরানকে অচল করে দিতে পারি’: ট্রাম্পসরকারি চার শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার৫০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজিকে ঘিরে প্রশ্ন! বাড়ি আছে কানাডা ও ডেনমার্কেশ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে সরকারবিরোধী চক্র, দাবি পুলিশেরতুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে মিলল মোটরসাইকেলবিদেশে বিএনপির কোনো প্রভু নেই, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব: রিজভী
বিশেষ সংবাদ

৫০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজিকে ঘিরে প্রশ্ন! বাড়ি আছে কানাডা ও ডেনমার্কে

৫০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজিকে ঘিরে প্রশ্ন! বাড়ি আছে কানাডা ও ডেনমার্কে

কানাডা ও ডেনমার্কে বাড়ি থাকার অভিযোগ; রাজধানীতে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদন | জি. এম. রফিক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহজামান খানকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জন, সম্পদের প্রকৃত উৎস, বিদেশে বাড়ির মালিকানা, ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরে অর্থ সংরক্ষণ এবং সরকারি প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমে সম্ভাব্য অনিয়মের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। দীর্ঘ সরকারি চাকরিজীবনে অর্জিত বৈধ আয় ও কথিত সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামেও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। এমনকি কানাডা ও ডেনমার্কে বাড়ি থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অর্জনের সময়কাল যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই তা প্রমাণিত হওয়া নয়।

দীর্ঘ সরকারি চাকরি, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মোঃ শাহজামান খান দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে তাঁর এবং পরিবারের কথিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বেতন-ভাতা, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ এবং অন্যান্য বৈধ আয়ের উৎস পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগপত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমির মালিকানা কিংবা সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে রায়েরবাজার এলাকায় বাড়ি, শাহ আলী রোডের চিড়িয়াখানা ঢাল এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় প্লট ও জমি, পল্লবী ও মিরপুর সিরামিক রোডে ফ্ল্যাট, বনানী ডিওএইচএস এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট থাকার অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরা ও রাজধানীর অন্যান্য আবাসিক এলাকায় জমি কিংবা সম্পত্তির মালিকানা নিয়েও অভিযোগপত্রে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস, দলিল সম্পাদনের সময়কার আর্থিক সক্ষমতা এবং বর্তমান ভোগদখল সম্পর্কে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

কানাডা ও ডেনমার্কে বাড়ি থাকার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বিদেশেও সম্পত্তি থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে কানাডা ও ডেনমার্কে বাড়ি থাকার অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, বিনিয়োগের উৎস এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

বিদেশে কোনো সম্পত্তি থাকলে সেটির প্রকৃত মালিক কে, ক্রয়ের অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের বৈধ উৎস কী—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।

স্ত্রী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে সম্পদ রাখার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিজের নামে থাকা সম্পদের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামেও সম্পদ থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়, সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে কোনো সম্পত্তি কেনার অর্থ কে দিয়েছেন, দলিল কার নামে হয়েছে, প্রকৃত ভোগদখল কার হাতে এবং সম্পদ অর্জনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সক্ষমতা কেমন ছিল—এসব বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় আনার দাবি রয়েছে।

তবে পরিবারের সদস্য কিংবা আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পত্তি থাকলেই তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ বলে বিবেচিত হবে না। অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে।

ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের দাবি

সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা হিসাব, এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য সংগ্রহের আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে যেসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও যৌথ ব্যাংক হিসাব, পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত হিসাব, বড় অঙ্কের নগদ জমা ও উত্তোলন, এফডিআর ও ডিপিএসের অর্থের উৎস, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং সম্পত্তি কেনার সময়কার ব্যাংক লেনদেন।

এ ছাড়া চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আয়-ব্যয় ও সম্পদের তুলনামূলক বিশ্লেষণের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিশ্লেষণ ছাড়া কথিত সম্পদের প্রকৃত উৎস নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সরকারি প্রকল্প ও ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

ব্যক্তিগত সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টিও অভিযোগপত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

অভিযোগে ঠিকাদারি কাজ, প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, সরবরাহকারী নির্বাচন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, নির্মাণকাজ, প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগ, বিল পরিশোধ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিশেষ করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পরিচালক, কৃত্রিম প্রজনন, উপপরিচালক এবং বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যেসব প্রকল্প ও সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, সেগুলোর নথি পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমান মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প অনুমোদন, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আনার আবেদন রয়েছে।

যেসব নথি যাচাইয়ের দাবি

অভিযোগপত্রে অনুসন্ধানের স্বার্থে জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, ভূমি রেজিস্ট্রি, খতিয়ান, নামজারি, রাজউকের বরাদ্দ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদ বিবরণী সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, প্রকল্পের ব্যয় বিবরণী, দরপত্র ও ই-জিপি রেকর্ড, ঠিকাদারি চুক্তি, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, অর্থ পরিশোধের বিবরণ, সরবরাহকারীদের পরিচয় এবং প্রকল্পের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীর মতে, এসব নথি পর্যালোচনা করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থের ব্যবহার, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ঘুষ, আর্থিক সুবিধা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সরকারি প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়েও অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব ব্যবহার করে পদায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের দায়িত্ব বণ্টন অথবা আর্থিক সুবিধা অর্জনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।

দুদকের কাছে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের আবেদন

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর প্রাসঙ্গিক বিধানের আলোকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, বরং সম্পদ অর্জনের সময়, অর্থের উৎস, প্রকৃত মালিকানা, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন এবং বৈধ আয়ের ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মহাপরিচালকের বক্তব্য

অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সম্পত্তির মালিকানা, কথিত সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ এবং দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহজামান খান প্রভাতী খবরকে বলেন, “আমার শুধুমাত্র একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি আছে।”

তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অন্যান্য সম্পত্তি, বিদেশে বাড়ি থাকার অভিযোগ, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

টিআইবির বক্তব্য

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রভাতী খবরকে বলেন, জনস্বার্থে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথি, আর্থিক লেনদেন, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জনস্বার্থে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি

সরকারি দায়িত্ব পালনকারী একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।

তাই অভিযোগপত্রে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই, সম্পদের প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান, ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সরকারি প্রকল্পের নথি পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান ও সুনাম রক্ষায় সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষ সংবাদ
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।
ডেভেলপ করেছে Metanoz