অভিযুক্ত এই ছাপাখানার স্বত্বাধিকারী হলেন মো. আবু নাসের সরকার (দুলাল)। গত বছর এই ভুয়া জালিয়াতির ঘটনার পর এবারও তিনি নতুন করে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঋণ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য এনসিটিবির ওয়ার্ক অর্ডার জমা দিয়ে সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের অনুকূলে ৮৫ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এনসিটিবি থেকে বিলের টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে ঋণ পরিশোধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১০ মাস ধরে ঋণ পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে বিলের টাকা অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নিয়েছেন মালিক আবু নাসের সরকার।
এই জালিয়াতির বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) বরাবর একটি লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, প্রতারণার এই ঘটনার কারণে ব্যাংকগুলো এখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে অর্থ বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত মালিককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যান্য ছাপাখানার মালিকদের ক্ষোভ ও ভোগান্তি প্রতারণার এই ঘটনার জেরে প্রিমিয়ার ব্যাংক এবার মুদ্রণ খাতে ঋণ প্রদান বন্ধ রেখেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন অন্য সৎ ও নিয়মিত ঋণগ্রহীতা মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা। মাতুয়াইলের এক ছাপাখানার মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুলালের প্রতারণার কারণে কেন অন্য ছাপাখানার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এমন প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া জানা গেছে, প্রমিয়ার ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করেই এবারও ১৩০ কোটি টাকার পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পেয়েছেন অভিযুক্ত আবু নাসের সরকার। এমনকি তিনি এনসিসি ব্যাংকের পান্থপথ শাখা থেকে পূর্বের মতো একই কায়দায় ১১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
নিম্নমানের বই জব্দ ও এনসিটিবির বক্তব্য এদিকে, এনসিটিবির পরিদর্শন দল সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনকালে সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের ছাপাখানা থেকে নিম্নমানের ১ লাখ কপি পাঠ্যবই জব্দ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিম্নমানের কাজ না করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্কও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বত্বাধিকারী আবু নাসের সরকার (দুলাল) দাবি করেছেন, ছাপাখানায় কিছু নষ্ট বই ছিল যা পরিদর্শন টিম জব্দ করেছে। তবে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এনসিটিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।