মাইকেল-আব্দুল কাদিরদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, রেকর্ড রুমে নিয়োগপত্রহীনদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ; সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিন্দার ঝড়
আগামী রোববারের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি সাংবাদিক নেতাদের
বিশেষ প্রতিবেদন:
ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালনির্ভরতা, সরকারি রেকর্ডের নিরাপত্তা এবং নিয়োগপত্রবিহীন ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম গাজী (জি এম রফিক) হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনায় রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ভেতরে একটি শক্তিশালী দালালনির্ভর নেটওয়ার্কের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক, ওমেদার, নকলনবিশ এবং নিয়োগপত্রবিহীন ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
দালাল ছাড়া কাজ কঠিন—চায়ের দোকান থেকে রেজিস্ট্রি অফিস
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ‘রহিম’ ছদ্মনামের এক ব্যক্তির। বাড্ডা থেকে আসা ‘ মফিজ ’ নামের একজন জমি রেজিস্ট্রি করাতে এসেছেন জানালে ওই ব্যক্তি নিজেকে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছের লোক হিসেবে পরিচয় দেন। জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ, এমনকি কাগজপত্রে সমস্যা থাকা কাজও সমাধান করে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।
নিজে নিজে কাজ করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগবে—এমন কথাও বলা হয়। শুধু একজন বা দুজন নয়, পুরো রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সজুড়ে এ ধরনের প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে এক শ্রেণির দলিল লেখক, ওমেদার ও নকলনবিশের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন রেখে ‘সোহেল’ নামের আরেক ব্যক্তির কাছে দেড় কোটি টাকা মূল্যের জমির সাব-কবলা দলিল রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাওয়া হলে সরকারি ট্রেজারি চালানের বাইরে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি অতিরিক্ত অর্থ না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার দলিলে স্বাক্ষর করবেন না—এমন দাবিও করা হয়।
রেকর্ড রুমে নিয়োগপত্রহীনদের প্রবেশ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সদর রেকর্ড রুম নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফি তুলনামূলক কম হলেও পুরোনো দলিলের ভলিউম তল্লাশি, নকল সংগ্রহ কিংবা রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েক হাজার থেকে ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের নিজস্ব জনবলের বাইরে ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো ব্যক্তি নিয়োগপত্র ছাড়াই বালাম বা ভলিউম তল্লাশির কাজ করছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে আবার কয়েকজন করে সহকারী থাকার অভিযোগ রয়েছে। মোহর আলী, মনির হোসেন, ইরফান, মিলন, বেল্লাল, শান্ত, ফাহিম ও রিয়াদসহ কয়েকজনের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। তবে এসব ব্যক্তির নিয়োগের বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকার কথা থাকলেও নিয়োগপত্রবিহীন ব্যক্তিদের রেকর্ড রুমে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বালাম বই ও দলিলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বালাম বইয়ের পাতা পরিবর্তন, পাতা কেটে নতুন পাতা সংযোজন কিংবা তথ্য পরিবর্তনের মতো গুরুতর অপরাধের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে রেকর্ড রুমের নথি, প্রবেশ রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।
মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও একই অভিযোগের ছায়া
রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বাইরে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরকে ঘিরে ঘুষ লেনদেন এবং নিয়োগপত্রবিহীন লোকজনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমের চাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ব্যক্তি নিয়মিত সেখানে প্রবেশ করছেন। এমনকি রেকর্ড রুমে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, কথিত নিয়োগপত্রবিহীন কয়েকজন ব্যক্তিকে দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নকল লেখার কাজ করানো হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে সরকারি অফিসে জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
‘টার্গেট’ পূরণের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থের ভাগ কোথায়?
অভিযোগের আরেকটি অংশে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কথিত ‘টার্গেট’ পূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। কোথাও সরকারি ফি ও নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই অর্থ কার কাছে যাচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আর্থিক নথি, দলিলের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্টদের সম্পদের বিবরণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগে এমনও দাবি করা হয়েছে, কথিত অবৈধ অর্থ সংগ্রহের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীন তদন্ত ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ
এদিকে খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং পেয়েছেন।
অভিযোগে সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বর্তমান পোস্টিং, দায়িত্ব পালনের ধরন এবং সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগও
লিখিত অভিযোগে মাইকেল
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে একই ধরনের প্রভাব বজায় রাখার দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি একই ব্যক্তি প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত না হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন খাতের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।
সাংবাদিকের ওপর হামলা—কী তথ্য অনুসন্ধান করছিলেন জি এম রফিক?
এই অভিযোগগুলোর মধ্যেই গত ৯ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক জি এম রফিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম গাজী দাবি করেছেন, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ঘিরে একাধিক ব্যক্তি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ওমেদার আওলাদ ওরফে ব্লেট আওলাদ, সদর রেজিস্ট্রি অফিসের রাসেল ওরফে পটুরাসেল, লম্বু রাসেল ওরফে ইয়াবা রাসেল, তেজগাঁও ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার শফীর ব্যক্তিগত ড্রাইভার কামাল ওরফে মাতাল কামাল, ট্যাবলেট হামিদ, পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ব্লেট রাজিব সহ রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সের উমেদার মাতাল সংগঠন নামের অনেকেই এই হামলার সাথে জড়িত।
ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ নয়; বরং সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের তীব্র নিন্দা
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের ১০ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জি এম রফিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ডিইউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামেরও প্রতিবাদ
একই ঘটনায় ঢাকায় কর্মরত খুলনা বিভাগের সাংবাদিকদের সংগঠন খুলনা বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি। ঘটনায় যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ইন্ধন ও সরাসরি হামলায় যুক্ত ছিলেন সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সাথে সাথে আগামী রোববারের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিদেশে অবস্থানরত অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাও জি এম রফিকের উপর নির্মম হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জরুরি তদন্ত
রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর পরিমাণ ও ধরন বিবেচনায় বিষয়গুলো এখন শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের পর্যায়ে না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে—
নিয়োগপত্র ছাড়া কারা সরকারি রেকর্ড রুমে প্রবেশ করছেন;
তাঁদের সেখানে কাজ করার অনুমতি কে দিয়েছেন; বালাম বই ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে; সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সত্য কি না;
অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে তার ভাগ কোথায় যাচ্ছে; সাব-রেজিস্ট্রারদের কথিত ‘টার্গেট’ ব্যবস্থার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আছে কি না;
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ ও আয় তাঁদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না; সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং হামলার নেপথ্যে কারও নির্দেশ বা ইন্ধন ছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দুদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান বন্ধ করতে হামলা নয়, তদন্ত চাই’
রেজিস্ট্রেশন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবায় সাধারণ মানুষের হয়রানি, দালালনির্ভরতা কিংবা সরকারি রেকর্ডের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
তবে অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে সেটিও আলাদা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের পথ বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রীয় সেবার স্বচ্ছতা।
এখন প্রশ্ন—রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অভিযোগের পর অভিযোগ জমা পড়লেও কর্তৃপক্ষ কি নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেবে, নাকি অভিযোগগুলোও ফাইলবন্দি হয়ে থাকবে?