**নিজস্ব প্রতিবেদক**
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্যানেল গঠিত হয়েছে। তবে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির একটিরও সভাপতির পদ পায়নি বিরোধী দল। এর ফলে সবগুলো কমিটির শীর্ষ প পদে আসীন হয়েছেন সরকারি দল ও তাদের জোটভুক্ত সংসদ সদস্যরা।
বিরোধী দল থেকে কেবল পাবলিক অ্যাকাউন্টস বা সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত শেষ চারটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিন অবশিষ্ট চার কমিটির প্রস্তাব চিফ হুইপ পৃথকভাবে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন সরকারি দলের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে 'সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি'র সভাপতির পদটি। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী এই কমিটির নেতৃত্ব বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যের হাতে থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাননি তারা। এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে।
**বিরোধী দলের ক্ষোভ ও অসন্তোষ**
কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি কমিটিতেও বিরোধী দলকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বিষয়টি নিয়ে কড়া আপত্তি তোলেন।
পাশাপাশি কমিটিগুলোতে সদস্য বণ্টনের ক্ষেত্রেও কারচুপির অভিযোগ এনেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের হিসাব অনুযায়ী তাদের দেওয়া তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কোথাও চারজন, কোথাও তিনজন, আবার কোথাও দুজন সদস্য রেখে পুরো তালিকায় একধরনের 'ডিস্টরশন' বা বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। পরবর্তী অধিবেশনে এসব অসংগতি দূর করার জোর দাবি জানান তিনি।
তবে বিরোধী দলের অভিযোগ খণ্ডন করে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, ২৬ শতাংশ আনুপাতিক হার মেনেই সদস্য বণ্টন করা হয়েছে। তবুও কোনো ভুলত্রুটি বা অসংগতি থেকে থাকলে আলোচনা সাপেক্ষে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি।
**জবাবদিহিতা নিয়ে স্পিকারের প্রশ্ন**
চিফ হুইপ ও হুইপদের কমিটিগুলোর সভাপতি করার বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার মূল চেতনা তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিফ হুইপ মনি এবং হুইপ অপুকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাহী বিভাগ আইনসভার কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য। কিন্তু নির্বাহী দায়িত্বে বা দলীয় চাবুক নিয়ন্ত্রণের পদে থাকা ব্যক্তিরা যদি সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন, তবে জবাবদিহিতার জায়গাটি ক্ষুণ্ন হয়।
স্পিকার আরও মনে করিয়ে দেন, সংসদীয় ব্যবস্থার আসল চেতনা হলো বেসরকারি সদস্যরা কমিটির নেতৃত্ব দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকবেন। ভবিষ্যতে কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংসদীয় গণতন্ত্রের এই মৌলিক নীতি বিবেচনায় রাখার জন্য তিনি চিফ হুইপকে পরামর্শ দেন।