রাজনীতি

ট্রাফিকের জরিমানায় ‘খুশি’ বিমানমন্ত্রী মিল্লাত

ট্রাফিকের জরিমানায় ‘খুশি’ বিমানমন্ত্রী মিল্লাত

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে নিজের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও জরিমানার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে মামলা ও জরিমানা হওয়ায় তিনি ‘খুশি’। তার মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে সরকার সুশাসন ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে।
মন্ত্রী বলেন, তার গাড়ির চালক যানজট এড়াতে রাস্তার ডিভাইডার অতিক্রম করে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে ট্রাফিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিল্লাত বলেন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের বিপরীতে সার্কিট হাউজ রোডের একটি অংশে প্রচণ্ড যানজট থাকায় তার গাড়ির চালক প্রায় ১০০ গজের ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিকের রাস্তায় ওঠার চেষ্টা করেন।
‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’
নিজের গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে ধন্যবাদ জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীর গাড়িও যদি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়।
মিল্লাত বলেন, জরিমানা ও মামলার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একই সঙ্গে নিজের গাড়ির চালকের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
তার ভাষায়, ভবিষ্যতে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে সে পার পাবে না—এমন একটি বার্তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
‘এটি নজিরবিহীন’
এদিন সকালে উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রাফিক পুলিশ। এক ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা হওয়ার ঘটনা বিরল ও নজিরবিহীন।
অতীতেও যানজট এড়াতে বা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মন্ত্রীদের গাড়ি উল্টোপথে চলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলেও, এ ধরনের ঘটনায় মামলা হওয়ার নজির খুব কম বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মনোভাব তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত।