নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে গেছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের লজিস্টিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের কৌশলগত পয়েন্টগুলো হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীরা সরাসরি আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের হুমকি এবং সম্প্রতি সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনে সেনা তৎপরতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে তারা। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর নির্ভর করছিল সৌদি আরব। এখন সেখানেও হুতিদের আধিপত্য রিয়াদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতায় বৃহস্পতিবার পুরো সীমান্ত এলাকায় মারাত্মক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হুতিদের মুহুর্মুহু আক্রমণের মুখে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারবার জরুরি সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়েছে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।
পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়া রোধ করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানকে বার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইসলামাবাদ গত মঙ্গলবার তেহরানের কাছে রিয়াদের একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়, যেন তারা হুতিদের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে বিরত রাখে। তবে তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, হুতিদের সামরিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর ইরানের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই ইয়েমেনের ভেতরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সমর্থক বাহিনী এবং হুতিদের এই লড়াই তীব্র রূপ নিল। একই সঙ্গে গাজায় চলমান যুদ্ধ ঘিরে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের অজুহাতে লোহিত সাগরে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।