আদালত প্রতিবেদক
পাঁচ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন আদেশ হওয়ার পর কারামুক্তির আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।গত মঙ্গবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ শনিবার এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক আগামী ৩০ মার্চ আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রেখেছেন। সে অনুযায়ী কারাগারে কাস্টরি ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়েছে। ফলে ঈদের আগে তার কারামুক্তি আটকে গেল।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই সকাল ৯ টার দিকে যাত্রাবাড়ির কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হার্ডিঞ্জং ফাযিল মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের ছাত্র আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরিফের বাবা মো. ইউসুফ যাত্রাবাড়ি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট মামলা করেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাই কোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চ ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন।
এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাই কোর্টে পৃথক পাঁচটি জামিন আবেদন করেন। মামলাগুলোর জামিন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর হাই কোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দেয়। এর মধ্য দিয়ে খায়রুল হকের পাঁচটি মামলায় জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।