জাতীয়

১৬–২০ আগস্ট বৃষ্টির বাড়তি ঝুঁকি

১৬–২০ আগস্ট বৃষ্টির বাড়তি ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৬ থেকে ২০ আগস্ট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং কোথাও কোথাও স্থানীয় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষিকাজ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতার কথা বলা হয়েছে।

১৪ আগস্টের আবহাওয়া পরিস্থিতিতেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা রয়েছে। এর আগে ১৩ আগস্ট আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়। একই সঙ্গে বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গা এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টিপাত বেশি হলে খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চল, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকা এবং সিলেটের হাওর ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ১৬ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে নির্দিষ্ট কোন জেলা বা এলাকায় বন্যা হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। বন্যার ঝুঁকি নির্ভর করবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং উজানের পানিপ্রবাহের ওপর।

বৃষ্টির প্রভাব কৃষিতেও পড়তে পারে। অতিবৃষ্টিতে সদ্য রোপণ করা ফসলের জমিতে পানি জমে গেলে কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে মাঠে থাকা ফসল সংগ্রহ ও কৃষিপণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারীও হতে পারে। ফলে ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে বৃষ্টির স্থায়িত্ব, তীব্রতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর।

সড়ক যোগাযোগেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। টানা বা ভারী বৃষ্টিতে শহর ও গ্রামীণ এলাকার নিচু সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হতে পারে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার অতিবৃষ্টিপ্রবণ স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও পরিস্থিতি অনুযায়ী বাড়তে পারে। অতীতে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ১৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে স্থানীয়ভাবে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি ঢোকার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিবর্তনশীল হওয়ায় ১৬ থেকে ২০ আগস্টের পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল, নদীতীর, হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানি সংক্রান্ত সরকারি সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখতে হবে। কৃষক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।