জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি ফখরুল-অলি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে মুখোমুখি ফখরুল-অলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়ন সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে; এর মধ্যে মির্জা ফখরুলের একটি এবং অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র রয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে বৈধ প্রার্থী একজন থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে এবারের নির্বাচনেও জাতীয় সংসদের সদস্যরাই ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদে ভোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল নির্ধারিত হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট অলি আহমদকে তাদের প্রার্থী করেছে। ফলে মনোনয়ন বৈধ থাকা এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হবে।

তবে বর্তমান পর্যায়ে কে নিশ্চিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, তা ১৬ আগস্টের যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্টের প্রত্যাহারপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও সেটিকে দুটি আলাদা প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না; একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি থাকলে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পারস্পরিক অবস্থানও সামনে আনতে পারে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে কি না, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। তাই ১৬ ও ১৮ আগস্টের দুটি ধাপ শেষ হওয়ার পরই ২০ আগস্ট সংসদে ভোট হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।