২৪ ঘণ্টায় সীমান্তে ৮টি পুশইনচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি বিজিবির
অনলাইন ডেক্স:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অন্তত আটটি পৃথক পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি বলছে, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার টহল ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন যাদবপুর সীমান্তে তিনজন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবির টহলদল সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানানো হয়েছে। বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করে।
একইভাবে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বাধীন বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি এবং অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় সাতজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়।
একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকাতেও চারজন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারাও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। সেখানে বাহিনীটির নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করিয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বাধীন কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানার বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগে থেকে জড়ো করে রাখা ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকাতেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বাহিনীটি আরও বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।