কারাগারে মৃত্যুর ১৫ বছর পর পুনর্বিচার, প্রশ্নের মুখে পুরোনো রায়
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ চার দশকের আইনি সংগ্রামের পর অবশেষে নতুন করে বিচার পাওয়ার সুযোগ মিলেছে জাপানের হিরোমু সাকাহারার- যদিও সেই রায় দেখে যাওয়ার জন্য তিনি আর বেঁচে নেই।
১৯৮৪ সালের একটি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এই ব্যক্তি ২০১১ সালে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর প্রায় দেড় দশক পর আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের অনুমতি দিয়েছে, যা জাপানের বিচার ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা।
আদালতের এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আনন্দের পরিবর্তে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় সাকাহারার পরিবারের মধ্যে। তারা তার কবরের পাশে জড়ো হয়ে অশ্রুসিক্ত স্মরণ করেন সেই মানুষটিকে, যিনি জীবদ্দশায় নিজের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৪ সালে, জাপানের হিনো শহরের একটি মদের দোকানের ব্যবস্থাপককে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে সাকাহারাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ছেলে কোজি সাকাহারার অভিযোগ, পুলিশ জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তার বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
যদিও আদালতে সাকাহারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, তবুও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর কারাভোগের পর ২০১১ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। তবে মৃত্যুর পরও তার পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই চালিয়ে যায়। বছরের পর বছর সামাজিক অপমান ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে তাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত ছিল।
অবশেষে পুলিশের একটি পুরনো নেগেটিভ ফিল্মের ভিত্তিতে নতুন প্রমাণ সামনে আসে, যা থেকে বোঝা যায়- মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিজেই সাকাহারাকে নির্দেশ দিয়েছিল। এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই আদালত পুনর্বিচারের অনুমতি দেয়। যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় মরণোত্তর পুনর্বিচারের ঘটনা।
এদিকে, এই ঘটনা জাপানের বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দেশটিতে ৯৯ শতাংশের বেশি মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় আইনজীবী ছাড়াই সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়- যা সমালোচকদের কাছে ‘জিম্মি বিচার’ নামে পরিচিত। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিও জোরালো হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে পুনর্বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে বারবার আপিল করে মামলাকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভুল রায় হলে দ্রুত তা সংশোধনের সুযোগ থাকা জরুরি। তবে বিচার মন্ত্রণালয় এ পরিবর্তনের বিরোধিতা করে বলছে, এতে প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, কোজি সাকাহারা এখনও আক্ষেপ নিয়ে বলেন, তার বাবা যদি এই রায় জীবদ্দশায় পেতেন, তবে হয়তো আজ সবকিছু ভিন্ন হতে পারত। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য দ্রুত বিচার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তথ্য সূত্র- সিএনএন।