বিশ্ব

গ্রিস উপকূলে উদ্ধার, অনেকে বাংলাদেশি

গ্রিস উপকূলে উদ্ধার, অনেকে বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় পৃথক কয়েকটি নৌযান থেকে এসব মানুষকে উদ্ধার করা হয়। ৬ আগস্ট থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে ক্রিটের দক্ষিণে কয়েকটি অভিযানে ২০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গ্রিক কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। কিছু প্রতিবেদনে মিসরীয় নাগরিকদেরও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব মানুষ সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা করে ক্রিটের কাছাকাছি পৌঁছালে গ্রিক কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো তাদের উদ্ধার করে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি নৌযান থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং তাদের বাড়ি বা জেলার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপথ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ছেড়ে আসা নৌযানে বাংলাদেশ, মিসর, সুদানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যাত্রার ঘটনা নিয়মিত সামনে আসছে। এর আগে মার্চেও ক্রিটের কাছে একটি নৌযান থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। গ্রিক কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন বাংলাদেশি; একই ঘটনায় সমুদ্রে আরও ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য সামনে আসে।

বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনিরাপদ নৌযান, খাদ্য ও পানির সংকট এবং মানবপাচারকারীদের ওপর নির্ভরতার কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। মার্চের ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, তারা প্রায় ছয় দিন ভূমধ্যসাগরে খাদ্য ও পানি ছাড়া ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বাংলাদেশিদের অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ বেছে নেওয়ার ভয়াবহতার দিকটি আবারও সামনে এনেছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার পেছনে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা, বিদেশে উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং দালালচক্রের প্রলোভনসহ বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ যাচাই ছাড়া অনুমান করা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গ্রিস উপকূল থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ধারাবাহিকভাবে উদ্ধারের ঘটনা বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা এবং প্রযোজ্য আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অনিয়মিত সমুদ্রপথে যাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগও জোরদার করা প্রয়োজন।