জাতীয়

সড়কে প্রাণহানি, লাইনচ্যুত ট্রেনেও ভোগান্তি

সড়কে প্রাণহানি, লাইনচ্যুত ট্রেনেও ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বগুড়া ও সিলেটে একই সকালে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে হবিগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিভিন্ন রুটে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বগুড়া ও সিলেটে বড় দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বগুড়ায় একটি বাসের চাপায় সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। দুটি ঘটনায় আহত হন অন্তত ৩৪ জন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

সিলেটের ওসমানীনগরের দুর্ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ত একটি অংশে। দুই বাসের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও যানবাহনগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত দুই বাসের লাইসেন্স বাতিল এবং চালকদের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

বগুড়ায় একই সকালে বাসচাপায় শ্রমজীবী মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিলে কয়েকজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অন্যরা আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং সড়কে নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর বাইরে ৯ আগস্ট হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেলের ভাউচারবাহী একটি গাড়ির সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটি উল্টে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশার যাত্রী আবুল খায়ের এবং ট্রাকের সহকারী রিপন মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেলপথেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীদের দ্রুত ট্রেনের গতি কমিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে পরে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে এবং ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ৭ আগস্ট ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের কাছে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, লাইনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং এতে কেউ হতাহত হননি। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে বিকল্প পথে ঢাকা-ময়মনসিংহসহ সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

একই সময়ে সড়ক ও রেলপথে একাধিক দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দক্ষতা ও সতর্কতা, যানবাহনের ফিটনেস, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়কের অবস্থা—প্রতিটি বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কোনো দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।

রেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও লাইন ও অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংকেতব্যবস্থা, ট্রেন পরিচালনা এবং নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও একটি ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হওয়া রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।

সড়ক ও রেল—উভয় ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ, যানবাহন ও অবকাঠামোর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই এবং দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।