নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কাভার্ড ভ্যানের দুর্ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ও আহত হয়েছেন। সর্বশেষ রোববার (৯ আগস্ট) রাতে মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি কাভার্ড ভ্যান দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মগবাজার-মৌচাক উড়ালসেতু থেকে নামার সময় কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সড়কে থাকা দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুজন হলেন নড়াইল সদর উপজেলার মধুরগাতি ফকিরপাড়া গ্রামের জামান আহমেদ (৪২) ও রিয়াদ হোসেন (২২)। জামান ওই গ্রামের ইলিয়াস ফকিরের ছেলে এবং রিয়াদ লিয়াকত ফকিরের ছেলে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ঘটনার এক দিন আগেও রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সোলিম শেখ (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানটির চালককে আটক করা হয়।
এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে রাজধানীর রমনা থানার ডিবি ক্রসিং এলাকায় কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আব্দুল বারী (৩১) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে তখন পুলিশ জানিয়েছিল।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বারবার প্রাণহানির ঘটনায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস এবং সড়কে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা ভারী যানবাহনের পাশে চলাচলের সময় তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রতিটি ঘটনার পৃথক তদন্ত প্রয়োজন।
মগবাজারের দুর্ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, চালকের গতি ও গাড়িটির কারিগরি অবস্থা কেমন ছিল এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কাংশে কার্যকর নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে মোটরসাইকেলসহ অপেক্ষাকৃত ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।