জাতীয়

বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত

বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগে পদোন্নতি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি নেওয়া সব পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিধিবহির্ভূত পদ সৃষ্টি, যোগ্যতা ও বিধি অনুসরণ না করে পদোন্নতি এবং প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগে কয়েকটি পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠার পর পদোন্নতি কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কোন কোন পদ সৃষ্টি বা কোন কোন পদোন্নতিতে নির্দিষ্টভাবে অনিয়ম হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

অভিযোগে প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কথাও উঠে এসেছে। তবে এই অর্থের উৎস, কার সঙ্গে কার লেনদেন হয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে এবং এর সঙ্গে পদোন্নতি কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনকে এখনই প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান। এর প্রকৌশল বিভাগ উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি নিরাপত্তা ও পরিচালন-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এ কারণে এ বিভাগের জনবল কাঠামো, পদ সৃষ্টি, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি ও কারিগরি যোগ্যতা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি কারিগরি ব্যবস্থাপনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সকালে পদোন্নতি দেওয়ার পর একই দিনে সেই আদেশ প্রত্যাহারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। পরে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবরও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জুন মাসেও বিমানের কর্মকর্তা পদায়ন ও পদোন্নতি নিয়ে বিতর্কের খবর প্রকাশিত হয়। একটি পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই আদেশ প্রত্যাহারের ঘটনাও গণমাধ্যমে আসে।

বর্তমান অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা তদন্তের ফলের ওপর নির্ভর করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অযথা দায় আরোপ না করাও ন্যায়সংগত।

পদোন্নতি স্থগিতের সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৌশল বিভাগের চলমান পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আপাতত থেমে গেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূত পদ সৃষ্টি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন এবং কথিত ৩১ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পদোন্নতির নথি, অনুমোদন, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল বিভাগে পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিধি মানা হয়েছে কি না এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পেছনে বাস্তব কোনো তথ্য রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।