জাতীয়

নোবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ পাঁচজনকে দুদকের তলব

নোবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ পাঁচজনকে দুদকের তলব

বিশেষ প্রতিবেদক, নোয়াখালী

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্যসহ পাঁচজনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা অমান্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। ১৩ আগস্ট দুপুরে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়।

দুদকের সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের আওতায় নোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন বা অনিয়মের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তলবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাঁদের দায়িত্ব পালনকালীন সিদ্ধান্ত, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধানে সাধারণত অভিযোগের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। ফলে তলব করা হয়েছে মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই।

নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগ একটি নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, বাছাই ও নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনসহ প্রতিটি ধাপে বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব ধাপের কোনো পর্যায়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যাচাই প্রয়োজন।

দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা অমান্যের অভিযোগের কথা বলা হলেও অভিযোগগুলোর কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত বলা যাচ্ছে না। একইভাবে তলব করা পাঁচজনের বক্তব্যও অনুসন্ধানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্ত ও অনুসন্ধান চলাকালে অভিযুক্ত বা অভিযোগসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে অভিযোগের প্রকৃতি এবং অনুসন্ধানের অবস্থান আলাদাভাবে তুলে ধরা আইনগত ও সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আবার অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়মুক্তির বিষয়টিও সমান গুরুত্বে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

নোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে দুদকের এই তলব তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তলব করা ব্যক্তিদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা।