জাতীয়

বেবিচকের দুই প্রকৌশলী নিয়ে দুদকের চিঠি সংশোধন

বেবিচকের দুই প্রকৌশলী নিয়ে দুদকের চিঠি সংশোধন

বিশেষ প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি চিঠিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদ সম্পর্কে দেওয়া তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে তথ্য দেওয়া হলেও ১৩ আগস্টের সংশোধিত চিঠিতে দুদক জানিয়েছে, দুজনই পৃথক দুর্নীতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন।

দুদকের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। প্রকাশিত মামলার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আমিনুল হাসিব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে মইদুর রহমান মো. মওদুদ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই প্রকল্পে কাজ না করেই অগ্রিম বিল হিসেবে ২১২ কোটি টাকা ছাড় করার অভিযোগে দুদক মামলা করে। মামলায় মওদুদসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের মামলার প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজের বিপরীতে অগ্রিম বিল ছাড়ের অভিযোগটি ওই মামলার অন্যতম বিষয়। তবে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

মইদুর রহমান মো. মওদুদ এর আগে প্রকল্পের নকশা ও উন্নয়নকাজ নিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ২০১৮ সালে করা হলেও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড এবং বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালার হালনাগাদ নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশা ও মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়েই নকশা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বেবিচকের সরকারি ওয়েবসাইটেও মোহাম্মদ আমিনুল হাসিবকে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মেয়াদ ও প্রাক্কলিত ব্যয়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

দুদকের নতুন চিঠির ফলে দুই প্রকৌশলী সম্পর্কে পূর্বের ‘মামলা নেই’ তথ্য আর বহাল থাকছে না। সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলার এজাহারে নাম রয়েছে এবং তদন্ত চলমান। ফলে প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে তাঁদের বিষয়ে দুদকের হালনাগাদ তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে প্রতীয়মান হয়।

তবে মামলা তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার। শুধু এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়। আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দোষতার অধিকারও বহাল থাকে।

বেবিচকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময়কার সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থ ছাড় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে দুদকের তদন্তের অগ্রগতি এখন এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্বের চিঠিতে তথ্যের ভুল কীভাবে হয়েছিল এবং সংশোধিত তথ্য কোন নথির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়টিও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুদকের সংশোধিত চিঠিতে দুই প্রকৌশলী সম্পর্কে তথ্য পরিবর্তনের বিষয়টি তাই শুধু একটি দাপ্তরিক সংশোধন নয়; বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।