বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভাণ্ডারের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাসের অপসারণ দাবি করা হয়েছে। এ দাবিতে স্থানীয় লোকজন রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ঝাড়ু নিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের অপসারণের দাবি জানান। বিক্ষোভের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সমাজসেবা, শিক্ষা, মৎস্যসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির খানা তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতার নীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে লোক নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মতো সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খানা বা পরিবারের তথ্যের ওপর নির্ভর করে উপকারভোগী নির্বাচন ও পরবর্তী সরকারি সহায়তার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। ফলে নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা বৈষম্য হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এবং অপসারণের দাবি নিজেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। অভিযোগের বিষয়ে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, আবেদনকারীদের তালিকা, বাছাইয়ের মানদণ্ড, নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও খাদিজা আক্তার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাসের বক্তব্য নেওয়া এবং তাঁদের বক্তব্য প্রকাশ করা হলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনা করে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সরকারি নিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের ন্যায্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও প্রশাসনিক জবাবদিহির অংশ।