ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাওয়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মানদেব প্রণালি’ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। রয়টার্সের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এই অভিযানে সৌদি নেতৃত্বাধীন রিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনি বাহিনী স্থলভাগে সরাসরি লড়াই করবে এবং তাদের সহায়তায় বিমান হামলা চালাবে সৌদি আরব। পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ছয়জন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।
অভিযানের নেপথ্য কারণ ও কৌশল
গত মাসে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয়। বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি হুথিদের হাতে চলে যাওয়াকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিয়াদ মনে করছে, হুথিদের হাতে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে কোনো শান্তি আলোচনায় যাওয়া অসম্ভব।
এই অভিযান সফল করতে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সৌদি নেতৃত্ব:
-
প্রথম বিকল্প: বাব আল-মানদেবের আশপাশের এলাকায় সীমিত আকারে আক্রমণ চালিয়ে সরাসরি উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখল করা।
-
দ্বিতীয় বিকল্প: ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমন্বিতভাবে বড় আকারের সর্বাত্মক আক্রমণ চালানো।
অভিযানের পরিসর ও ব্যাপকতা অনুযায়ী এতে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে যুদ্ধে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হলো এই বাব আল-মানদেব প্রণালি, যার মাধ্যমেই মূলত ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে প্রধান বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতায়াত করে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সৌদি উদ্বেগ
এই সামরিক উদ্যোগে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি এই সংঘাতে অংশ নেবে কি-না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তানও সৌদি আরবকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, হুথিদের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কায় রয়েছে রিয়াদ। দেশের প্রধান তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছে সৌদি আরব।