সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শিবাজী উৎসব’। ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ইউরোপীয় সভ্যতার যে সমালোচনা ফুটে উঠেছিল, তা পরিবর্তনের পাশাপাশি সনাতনী ধারা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেবাসের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনসমূহ:
-
সাহিত্য ও নাটকে রদবদল: সাহিত্য ও নাটকের মাধ্যমে দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দিতে যুক্ত করা হয়েছে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার পতন’ নাটকটি। ফলে পাঠ্যসূচি থেকে বাদ পড়ছে বহুল পঠিত নাটক ‘সিরাজদৌল্লা’।
-
ইতিহাসের পুনর্গঠন: পাঠ্যবইয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সংক্ষেপ করে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্যবাদ বা কমিউনিজম-সংক্রান্ত বিশদ অধ্যায়গুলো সংকুচিত করা হয়েছে।
-
শব্দ বর্জন: ভাষাগত সংস্কারের অংশ হিসেবে পাঠ্যবই থেকে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মু’-র মতো শব্দগুলো বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
রাজনৈতিক ও সরকারি বিষয় ছাঁটাই: পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের একাধিক বহুল আলোচিত বিষয় নতুন বই থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে বাদ পড়ছে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংগঠিত ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’-এর ইতিহাস। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নতুন সংস্করণ থেকে তা পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে।