গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে প্রায় দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয় এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে দেয়াল ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সেবার চিত্র:
-
সীমিত সেবা: শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে মোট ৫৬ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে ৩৫ জন শিশু (টিকা) এবং ২১ জন নারী রয়েছেন। অথচ হামলার আগে এই কেন্দ্রে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ জন রোগী (বেশিরভাগ নারী ও গর্ভবতী মা) সেবা পেতেন।
-
সংস্কারের অগ্রগতি: কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ভেঙে ফেলা বারান্দা ও সীমানাদেয়ালে ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার এবং রঙের কাজ চলছে। নতুন লোহার গ্রিল, জানালা ও দরজা বসানোসহ পানির ট্যাংক ও শৌচাগার মেরামতের কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সহযোগিতা ও উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময়: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অর্থায়নে এই সংস্কারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে কেন্দ্রটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ জিম্মায় রাখা হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হবে।
সরঞ্জাম সংকট ও চ্যালেঞ্জ: রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভবনের সংস্কার এগোলেও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কালার প্রিন্টার, কম্পিউটার, ফ্রিজ, জেনারেটর, এসি এবং চিকিৎসাসেবার বিশেষ আসবাবসহ বহু মূল্যবান সরঞ্জাম লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল পরীক্ষা করার পরই নতুন কী কী সরঞ্জামের প্রয়োজন হবে তার তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় যত দ্রুত সম্ভব আগের রূপ ফিরিয়ে এনে পুরো সেবা চালুর চেষ্টা চলছে।