রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে জবানবন্দি দেয় আসামিরা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবণ (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)।
পরিকল্পিত মব ও নির্মম হত্যাকাণ্ড: পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদের ওপর হামলা চালানো হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে মাদকসেবনের কথা বলে পরিকল্পিতভাবে মব (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে আসামিরা। এরপর লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফয়েজকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান: ঘটনার পরদিন ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬) রয়েছে। পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণের পর রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কিশোরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করলে বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
কিশোর গ্যাং ও ত্রাস সৃষ্টি: পিবিআইয়ের তদন্তে বের হয়ে এসেছে— অভিযুক্ত দুই কিশোর এলাকায় তরুণদের সংগঠিত করে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছিল। তারা এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি, ত্রাস সৃষ্টি ও মব তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।