দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি বিক্রি ও ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল মিয়াকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রিফাত কবীর নামের এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে উপজেলার ছয়ঘট্রি (ওসমানপুর) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২২ সালে মিসরে যান রিফাত কবীর। ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর পরিচয়ের সূত্র ধরে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এরপর গরুর খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন শুরু হয়।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোড়াঘাটের সাগরপুর মৌজায় ৫৭ শতক জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। উজ্জ্বল ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ১২ লাখ টাকা পরে পরিশোধের কথা বলে জমিটি দলিল করে নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে উজ্জ্বলের সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাবে মোট ৪৮ লাখ টাকা পাঠান রিফাত। এসব লেনদেনের ব্যাংকিং নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পরে গত ৮ জুন ওসমানপুর বাজারে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উজ্জ্বল ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় জমির বায়নানামা, গরু কেনার বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের কথাও বলা হয়েছে।
তবে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উজ্জ্বল উল্টো ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন রিফাত। তাঁর দাবি, টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এজাহার অনুযায়ী, একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় রিফাতের পথরোধ করা হয়। এ সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এ ছাড়া রিফাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাঁকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের মামলায় উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।




