সারাদেশ

গান বন্ধ নয়, পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে শব্দ কমাতে বলেছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা: পাটওয়ারী

গান বন্ধ নয়, পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে শব্দ কমাতে বলেছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা: পাটওয়ারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা গান-বাজনা বন্ধ করতে যায়নি; বরং পরদিন পরীক্ষা থাকায় অনুষ্ঠানের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে পাটওয়ারী মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুবারকুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা।
‘গান বন্ধ করতে নয়, শব্দ কমাতে গিয়েছিল’
গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সামনে পরদিন পরীক্ষা থাকায় তারা উচ্চ শব্দে সমস্যায় পড়েছিল।
তার দাবি, অনুষ্ঠানের অতিথিরা চলে যাওয়ার পর শব্দ আরও বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি না জানিয়ে কেবল শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিল।
পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় সারাদেশে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গান-বাজনা বন্ধ করতে গিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা মূলত পরীক্ষার প্রস্তুতির স্বার্থে শব্দ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিরও দাবি জানান তিনি।
‘কমপক্ষে ৩০ শিক্ষার্থী আহত’
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের বরাত দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ঘটনার রাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অন্তত ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত বিচার বা জবাবদিহি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
সংসদে বক্তব্যের পর বাড়ে উত্তেজনা
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে শুক্রবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ করেন।
এরপর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক সমন্বয় সভাস্থলে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মসূচি পালন না করার নির্দেশনা দেয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে শনিবার বিকালে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান এনসিপির নেতারা।
এ সময় পাটওয়ারী বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন এবং কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে।