বিশ্ব

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযান, এক হাজারের বেশি হামলার দাবি

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযান, এক হাজারের বেশি হামলার দাবি

 

সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের জন্য এই অভিযান একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর মাত্র এক মাস আগেই লোহিত সাগরের উপকূল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল সরকারি বাহিনী।

১ হাজারের বেশি হামলা ও কৌশলগত পয়েন্ট পুনরুদ্ধার দাবি সরকারিভাবে নতুন অভিযানের ঘোষণার পর ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুতিদের কামান ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, প্রতিরক্ষা স্থাপনা, লজিস্টিক অবকাঠামো, রসদ সরবরাহের পথ এবং যুদ্ধাস্ত্রসহ অতিরিক্ত সেনার অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক মুখপাত্র আরও দাবি করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে হুতি-সমর্থিত গণমাধ্যম সরকারি বাহিনীর ভূখণ্ড পুনর্দখলের দাবিটি অস্বীকার করেছে।

তাইজ শহর ঘিরে তীব্র সংঘর্ষ, নিহত বহু এদিকে সরকারি বাহিনীর এসব ব্যাপক হামলার পরও হুতিদের অগ্রযাত্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে না। গত রোববার হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরকে প্রায় চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এছাড়া শহরটির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজধানী এডেনের প্রধান সরবরাহ লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তারা।

তাইজ প্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় দুপক্ষের তীব্র সংঘর্ষে কেবল এক দিনেই ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। এর আগে শুক্রবারের সংঘর্ষে প্রায় ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদ্বেগের শঙ্কা বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রুট। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।