মূল খবরে যান

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬৮ কার্তিক ১৪৩৩

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
পাবনায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, গণধোলাই ও অগ্নিসংযোগহেবরনে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ছাড়তে মাত্র ৫ মিনিটের আল্টিমেটাম ইসরায়েলেরবগুড়া কারাগারে সাবেক যুবলীগ নেতার মৃত্যুসুস্থ থাকতে তরুণদের নতুন ভাবনা, গুরুত্ব পাচ্ছে মানসিক প্রশান্তিবাংলাদেশে বেকারত্বের সংকট: শিক্ষিত তরুণদের ভবিষ্যৎ কোন পথে?অস্কারের জন্য চলচ্চিত্র নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবিচার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের পথে স্বর্ণের বাজারশিগগিরই পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে বেশি হবে এআই এজেন্ট: মাইক ওয়ালশ
সারাদেশ

পাবনায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, গণধোলাই ও অগ্নিসংযোগ

পাবনায় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, গণধোলাই ও অগ্নিসংযোগ

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে এক মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আবু ইউসুফ। এ ঘটনার জেরে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ভবন ও অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি পদ্মা মাঠসংলগ্ন ‘নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসা’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ফজরের আজানের ঠিক আগে মাদ্রাসার এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্ষ থেকে বের হয়। এ সময় শিক্ষক ইউসুফ জোরপূর্বক তাকে টেনে হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ইউসুফ পালানোর চেষ্টা চালান। স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেয়।

চেতনানাশক খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ

ভুক্তভোগী ছাত্রী মারাত্মক অভিযোগ এনে জানায়, এর আগেও শিক্ষক ইউসুফ তাকে একাধিকবার চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করেছেন। পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধও খাওয়ানো হতো। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার অন্যান্য কয়েকজন ছাত্রীর সাথেও একই ধরনের অনৈতিক ঘটনা ঘটেছে বলে ওই ছাত্রী দাবি করে। বিষয়টি কাউকে জানালে বা মুখ খুললে মারাত্মক পরিণতির হুমকি দেওয়া হতো বলেও সে জানায়। ভুক্তভোগী ছাত্রী এই পাষণ্ড শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

জনরোষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ঘটনার খবর মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শত শত ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের মাদ্রাসা ও তার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ইউসুফের চরিত্র বহু আগে থেকেই বিতর্কিত। ইতিপূর্বে পরকীয়ার জেরে নিজ স্ত্রীকে হত্যার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশের বক্তব্য

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

সারাদেশ
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।