একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ৯৯তম আসরে আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশ থেকে সিনেমা নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও একচ্ছত্র সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস)-এর বিরুদ্ধে অস্কার কমিটি গঠন ও সিনেমা বাছাইয়ে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এই অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ নতুন রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ফেডারেশনের আওতাধীন সাধারণ সদস্য ফিল্ম সোসাইটি, চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাবগুলোকে কোনো কিছু না জানিয়ে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
'স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে'
চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের (বিএফএসএফ) একাংশের সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, "চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়। অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র সমতা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়।"
তিনি আরও বলেন, অস্কারের মাধ্যমে দেশের সুনামহানি কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ যেন না হাসিল হয়, সেজন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিগত সরকারের সময়ের ধারাবাহিকতা ও অস্কার কমিটিতে অভিযোগের প্রস্তুতি
বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের (বিএফএসএফ) সাধারণ সম্পাদক সায়মন তারিক বলেন, "বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএফএফএস বিগত সরকারের সময়েও নানা অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও অগণতান্ত্রিকভাবে নতুন কমিটি বানিয়ে ফায়দা নেওয়া হচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ কাঠামোর বিরুদ্ধে সরকারিভাবে অস্কারে সিনেমা পাঠানোর বিষয়ে আমরা সরাসরি অস্কার অথরিটির (একাডেমি অস্কার কমিটি) কাছে অভিযোগ দায়ের করব।"
আর্থিক অস্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব
চলচ্চিত্র কর্মী ও বিভিন্ন ফিল্ম ক্লাবের সদস্যদের মূল অভিযোগ, প্রতি বছর বিএফএফএস সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালায় এবং হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। বছরে কেবল একবার সম্মেলনে ডেকে বাকি সময়ে কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় না।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক আসরে সিনেমা বাছাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর জন্য নির্ধারিত নীতিমালা, নিরপেক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি, কমিটির স্বচ্ছ গঠনপ্রণালী ও অর্থায়নের উৎস স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। তারা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র পরীক্ষা এবং অস্কার কমিটি পুনর্গঠনের জোর দাবি জানান।




