গল্প সংক্ষেপ ও পটভূমি:
ছবির গল্প শুরু হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুখ্যাত এলাকা সীমান্তপুর দিয়ে, যেখানে অবৈধ পাচার, মাদক ব্যবসা আর চোরাচালানের রাজত্ব। সীমান্ত এলাকায় রাতের আঁধারে এক সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান প্রাণ হারান।
সেই ঘটনার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখে দাঁড় করাতে জেলখানা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় বাইরে আনা হয় সাবেক আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারী ওরফে দেবকে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয় না সে। এভাবেই তাকে যুক্ত করা হয় ‘দেশের সুরক্ষা’ বা সংক্ষেপে ‘দেসু’ প্রজেক্টে।
সীমান্তপুরে পা রেখে দেবের সঙ্গী হয় তিনজন সাহায্যকারী—খালাসি কাকা, হেলিকপ্টার ও মাসি। এদের সহযোগিতায় সে পৌঁছে যায় বড়দা অনুজয় চৌধুরী ও ছোটদা রনজয় চৌধুরীর আস্তানায়। সেখানে গিয়ে বড়দার স্ত্রী ডা. শুভস্মিতা দেবের দেখা পায় সে, যিনি একসময়ের তার প্রাক্তনী। পুরোনো ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা আর অন্যদিকে কঠোর মিশন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প।
নির্মাণ ও অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্স:
দুই ঘণ্টা ছিয়াচল্লিশ মিনিটের এই সিনেমাটিতে টানটান উত্তেজনা ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের জেরে সময় কীভাবে কেটে যায় তা বোঝাই যায় না।
-
দেব ও শুভশ্রী জুটি: দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে পর্দায় ফিরলেও দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন ছিল দেখার মতো। দুজনের বোঝাপড়ায় কোনো ঘাটতি ছিল না।
-
খলচরিত্রে অনির্বাণ: খল চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের উপস্থিতি সিনেমাটিকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। দুই যমজ ভাইয়ের দ্বৈত চরিত্রে তিনি যেভাবে পর্দায় হাজির হয়েছেন, তা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
-
অন্যান্য কলাকুশলী: প্রদীপ ভট্টাচার্য, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও পার্থসারথি চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারা নিজেদের ছোট ছোট চরিত্রেও দুর্দান্ত কাজ করেছেন। এছাড়া আইটেম গানে ইধিকা পালের পারফরম্যান্স বেশ নজর কাড়ে।
গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর:
ছবির অন্যতম বড় শক্তি রথিজিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ্যের সঙ্গে গানগুলোর ব্যবহার দৃশ্যগুলোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে গানগুলো বেশ জমে উঠেছে, বিশেষ করে ‘নাচে রে বাংলা’ এবং ‘ইলিশ চন্দনা’ গান দুটি দর্শক মনে আলাদা দাগ কাটে।
সবমিলিয়ে কেমন হলো সিনেমাটি?
দীর্ঘদিন ধরে দর্শক শহুরে ও ড্রয়িংরুম ড্রামার গল্পের বাইরে রোমান্স, অ্যাকশন ও আবেগের সুষম মিশ্রণযুক্ত ছবির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই হাজির হয়েছে ‘দেশু ৭’। কিছু ছোটখাটো যৌক্তিক খটকা বা ত্রুটি থাকলেও, শতভাগ বিশুদ্ধ বিনোদনে ভরপুর একটি জমজমাট কমার্শিয়াল মশলা ছবি হিসেবে উৎসবের মৌসুমে দর্শকদের পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে এটি পুরোপুরি প্রস্তুত।




