রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার সময় তানোরে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আসামি হয়েছেন হাফিজুর রহমান (৪০)। পুলিশের এজাহারে তাঁকে ৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে হাফিজুরের দাবি, ঘটনার সময় তিনি কারাগারের ভেতরে ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ওই রাতে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এ ঘটনায় মামলার আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাফিজুর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চন্দনকোঠা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় চুলের ব্যবসায়ী। ওই এলাকায় তাঁর একটি দোকান রয়েছে।
মিছিলের সময় কারাগারে থাকার দাবি
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তানোরের পাগলা দেওয়ান সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল হয়। পুলিশের দাবি, মিছিল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পরদিন শুক্রবার তানোর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই মামলায় হাফিজুরকে ৯ নম্বর আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্যদের সঙ্গে তিনিও মিছিলে অংশ নিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
তবে হাফিজুরের দাবি, ঘটনার সময় তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে তিনি কারাফটক দিয়ে বের হন। এ অবস্থায় রাত ৮টা ১০ মিনিটের ঘটনার সঙ্গে তাঁকে কীভাবে জড়ানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার ফৌজিয়া আক্তার ববি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শতাধিক আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পান। রাত ৯টার দিকে শেষ ব্যাচে হাফিজুরসহ রাজনৈতিক মামলার ছয় আসামি মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগে।
তিনি নিশ্চিত করেন, হাফিজুর ওই রাতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর ধারণা, রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। মুক্তির সময় কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া রেজিস্টার খাতায় আসামির স্বাক্ষর ও সময় উল্লেখ আছে।
আগের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাফিজুর
হাফিজুরের পরিবারের দাবি, গত ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তানোর থানা-পুলিশ তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে তাঁকে আটক করে। পরে গত ২৬ জুন দায়ের হওয়া একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ওই মামলার এজাহারে তাঁর নাম না থাকায় কয়েক দিন আগে তিনি জামিন পান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় যুবদলকর্মী ইমরান আলী হাফিজুরের দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ইমরানসহ কয়েকজন দোকান ভাঙচুর ও তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে হাফিজুর ইমরানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় অভিযোগ দেন। তবে তাঁর দাবি, পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি।
হাফিজুরের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে তাঁকে নতুন মামলায় জড়ানো হয়েছে। যুবদলকর্মী ইমরান পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে একই সময়ে ৩৫ ক




