বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জয়পুরে এক বক্তৃতাকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
যা বলেছিলেন মদন রাঠোর:
বক্তব্যের সময় মদন রাঠোর প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, তাই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার এটি বোঝা প্রয়োজন। ভারতের ক্ষেত্রে... যদি আজ যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াব, কারণ তারা আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু যখন বিষয়টি আমাদের নিজেদের মধ্যে হয়, তখন আমরা ভারতের পাশে দাঁড়াই। তাই না? এটাই আমাদের বুঝতে হবে।’
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ ও ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা:
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দলগুলো ফুঁসে ওঠে।
-
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রাঠোরকে ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি বিজেপির ভালোবাসা আবারও প্রকাশ্যে এলো—যে পাকিস্তান আমাদের সেনা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। রাজস্থান বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোর বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন। এই দেশবিরোধীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জানানো হোক।’
-
আম আদমি পার্টির (আপ) আক্রমণ: অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ-ও রাঠোরের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। দলটি প্রশ্ন তোলে, সাধারণ মানুষ বা তরুণরা সামান্য প্রশ্ন তুললেই তাদের ‘পাকিস্তানি বা সন্ত্রাসী’ বলা হয়, কিন্তু বিজেপির কোনো নেতা পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ালে নরেন্দ্র মোদির জাতীয়তাবাদ কোথায় হারিয়ে যায়?
মদন রাঠোরের সাফাই ও ব্যাখ্যা:
চারদিক থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের বক্তব্য নিয়ে সাফাই গেয়েছেন মদন রাঠোর। তিনি দাবি করেছেন, তার বক্তব্যকে ‘বিকৃত’ করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিনি মূলত ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের প্রেক্ষাপটেই কথাগুলো বলছিলেন। তার ভাষ্যমতে, ‘মানুষ সেখান থেকে কেবল শেষ দুটি লাইন তুলে ধরেছে। অথচ আমি খুব স্পষ্টভাবেই বলেছিলাম যে, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে ভারত হেরে গেলে যে ব্যক্তি আতশবাজি ফাটায়, সে দেশপ্রেমিক নয়। এখন যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তাদের মনে আমার প্রতি অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।’




