দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। সম্প্রতি গুজরাটের গান্ধীনগর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পরই মূলত এই রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে আসে।
এসআইআর প্রক্রিয়া ও বিরোধীদের প্রতিবাদ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ভারতের রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত রয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় কারচুপি ও অনিয়ম করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে অমিত শাহর প্রশ্ন
বিরোধীদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অমিত শাহ দাবি করেন, রাহুল গান্ধী দলের মূল নেতৃত্ব ও সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে হেরে চলেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুলজিকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কি এই এসআইআর-এর ফলেই তৈরি? আপনাদের আত্মসমালোচনা করা দরকার।”
নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইভিএম বা ভোটার তালিকাকে দায়ী করার সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, শুধু গুজরাট বা দিল্লি নয়, বরং ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন উপনির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। এমনকি ত্রিপুরার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির জয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপির এই সাফল্য কোনো বিশেষ পদ্ধতি বা ইভিএমের ওপর নির্ভরশীল নয়।
মাঠপর্যায়ে জনভিত্তিহীন দল কংগ্রেস
ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জ থেকে কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। তাঁর ভাষায়, “দেশের প্রকৃত কণ্ঠস্বর লুকিয়ে রয়েছে খেতখামার, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জনপদে; কিন্তু সেখানে কংগ্রেসের পৌঁছানোর কোনো ক্ষমতা বা জনভিত্তি নেই।”
সবশেষে আসন্ন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে এনডিএ জোট আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হবে এবং কংগ্রেস হ্যাটট্রিকের পর চতুর্থবারের মতো বড় পরাজয়ের স্বাদ পাবে।




