বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়ী গ্রামে (খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম সুমন (৩৫) বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনাক্রম ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুমন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ইতিপূর্বে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠান তার বাবা-মা। তবে প্রতিবারই রিহ্যাব থেকে পালিয়ে আসতেন তিনি। সম্প্রতি তাকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেন পরিবার।
বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল সুমনকে নিতে তাদের বাড়ি পৌঁছায়। বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সুমন ঘর থেকে ধারালো ছুরি বের করে হঠাৎ মায়ের বুকে সজোরে আঘাত করে। এ সময় বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাবা সরদার আলীর পেটেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সুমন পালিয়ে যায়।
বাড়িতে উপস্থিত রিহ্যাব কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বাবা সরদার আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দা কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাদক কীভাবে সমাজকে ধ্বংস করছে এটি তার জ্যান্ত প্রমাণ। যে মা ছেলেকে আগলে রাখতেন, সেই মায়ের প্রাণ গেল ছেলের হাতেই। মাদকের এই অবাধ সয়লাব বন্ধ না হলে কেউই নিরাপদ থাকবে না।”
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ছেলেকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




