বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও দামের ওঠানামা
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪৬ ডলার ৭৪ সেন্টে উন্নীত হয়। এর আগের দিন বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ৭ অক্টোবরের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
পাশাপাশি মার্কিন বাজারে আগামী ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৭ ডলার ৩০ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে।
ডলারের পতন ও মুদ্রাবাজারের প্রভাব
এর আগে গত বুধবার রাতে মার্কিন ডলারের সূচক গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছালেও বৃহস্পতিবার তা পতনমুখো হয়। সাধারণত ডলারের দাম কমলে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য মার্কিন ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপিটাল ডটকম’-এর জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রডার মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার সংক্রান্ত নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণেই বর্তমানে বাজারে এই ধরনের অস্থিরতা ও ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি ও ফেডের সুদের হার
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে। এর ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জল্পনা ও সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে ছিল ২২ শতাংশ।
অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা বা হেজ হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবেই স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সাধারণত স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়, কারণ সুদভিত্তিক সিকিউরিটির বিপরীতে স্বর্ণ ধরে রাখলে কোনো অতিরিক্ত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির নতুন তথ্যের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ১ সেন্ট হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬০৮ ডলার ২০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০৮ ডলার ১৪ সেন্টে পৌঁছেছে।




