মূল খবরে যান

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ: আইনমন্ত্রীকলকাতায় তৃণমূলের মিছিল এক পা-ও এগোতে দেব না: শুভেন্দুইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশসৈয়দপুর রেলকারখানায় কাজের নিম্নমানে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী, 'নিজের বাড়ির জানালা এভাবে সংস্কার করতেন?'‘পরিসংখ্যানই কথা বলে, আমিই সর্বকালের সেরা’: বিতর্কের মুখে ওয়েবসাইট থেকে উধাও রোনালদোর সাক্ষাৎকারইরানকে চীন ও রাশিয়ার সহায়তার খবর বিশ্বাস করেন না ট্রাম্পপ্রয়াত হয়েছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা আরজে মিতেচলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর শঙ্কা আইএমএফের
বাণিজ্য

চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর শঙ্কা আইএমএফের

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর শঙ্কা আইএমএফের

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত আইএমএফের অক্টোবর ২০২৬-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (World Economic Outlook) শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির এই নতুন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন ঝুঁকির দিকগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস

আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, চলতি বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে, যা আগামী ২০২৭ সালে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জ্বালানি খাতের ঝুঁকি

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি একের পর এক ধাক্কা সামলে এগিয়ে গেলেও এই সক্ষমতা সব দেশের জন্য সমান নয়। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা নেওয়া দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে; তবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে কম সম্পৃক্ত দেশগুলো তীব্র চাপের মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রাথমিক প্রভাব নানা উপায়ে কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও—যেমন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহ ব্যবস্থার রদবদল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ—দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি রয়ে গেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।

ঝুঁকিতে জ্বালানি আমদানি নির্ভর দেশগুলো

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল কিন্তু প্রযুক্তি খাতে পিছিয়ে আছে, তাদের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও মুদ্রার মানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ে ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং অর্থনীতিতে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।

বাণিজ্য অনিশ্চয়তা ও সরকারি ঋণের চাপ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক বৃদ্ধি, বাণিজ্য বিরোধ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে বলে ধারণা করছে আইএমএফ। এছাড়া বড় অর্থনীতিগুলোতে ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় বৃদ্ধির ফলে নতুন কোনো সংকট মোকাবিলায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে।

বাণিজ্য
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে