বাণিজ্য

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের, চলতি মাসেই প্রজ্ঞাপনের সম্ভাবনা

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের, চলতি মাসেই প্রজ্ঞাপনের সম্ভাবনা

 

গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকেই পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মজুরি বোর্ডের প্রক্রিয়া ও সময়কাল নিয়ে বিতর্ক

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানান, “তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছ থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। এরপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।” মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেলে চলতি মাসেই বোর্ড গঠন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে এনেছে। পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তা কার্যকর হয়েছিল ওই বছরের ডিসেম্বরে। সে হিসাবে আগামী নভেম্বরেই মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে।

তবে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সময় গণনা শুরু হবে, নাকি পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—তা নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শ্রমিকনেতাদের দাবি অনুযায়ী আইন মেনেই চলতি বছর নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণা করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ আইন পাসের পর থেকে সময় গণনার পক্ষে মত দিয়েছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে শ্রমসচিব জানান, কারিগরি কমিটির সভা কিংবা জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) মাধ্যমে অথবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়া

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই কাঠামোহতে সাতটি গ্রেড থেকে কমিয়ে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। তবে একই সঙ্গে বাড়তি মজুরি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা সব পোশাক কারখানার রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বর্তমান মজুরিকাঠামোর চাপে বহু কারখানা টিকতে না পেরে ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে নতুন করে মজুরি বাড়ানো হলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।”