বাণিজ্য

জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের কঠিন শর্তের ঋণ নিচ্ছে সরকার

জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের কঠিন শর্তের ঋণ নিচ্ছে সরকার

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত 'স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন' (এসসিএনসিএল)-এর সভায় এই ঋণ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ

অনুমোদিত অর্থের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের নতুন প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এ ব্যয় করা হবে। ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে। এর ফলে সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইআরডির কার্যপত্র অনুযায়ী, এডিবির এই ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারিত হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদী (৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) এই ঋণের গ্রান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হওয়ায় এটিকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

জ্বালানি আমদানিতে আইটিএফসির ৩.১ বিলিয়ন ডলার

এদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণ নেওয়ার প্রস্তাবও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।

এই বিশাল অঙ্কের অর্থের মধ্য থেকে—

  • বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি): জ্বালানি তেল আমদানিতে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাবে।

  • পেট্রোবাংলা: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ৬০০ মিলিয়ন ডলার পাবে।

ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং বাকি ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করবে। জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি করে দেশের সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই এই ঋণ নেওয়া হচ্ছে।

ঋণ গ্রহণে সরকারের আর্থিক নির্দেশিকা

অনমনীয় ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের ডেট সার্ভিসিভ ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। একই সঙ্গে মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বা ডেট স্টক জিডিপির ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্তও বহাল রয়েছে। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।