আপসনামা পর্যালোচনা করে আদালত মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় কেবল একটি আপসনামার ওপর ভিত্তি করে জামিন মঞ্জুর করা হলে সমাজে ন্যায়বিচার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আসামিপক্ষে জামিনের এই আবেদন করা হয়।
আসামিপক্ষের যুক্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানিকালে নজরুলের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান আদালতকে জানান, মামলার বাদী অর্থাৎ মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিপক্ষের সমঝোতা হয়েছে এবং বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে জামিনে কোনো আপত্তি নেই।
তবে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। সেদিন আদালত প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জামিন দিলেও সংসদ সদস্য নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন পুলিশ নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে নেয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।